প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারীর ফেনী সদর হাসপাতাল পরিদর্শন
ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ সাফল্যের ধারা অব্যাহত, ৫৬ পরীক্ষার্থীর ৫৫ জনই পেলো জিপিএ-৫
পরশুরাম সীমান্ত থেকে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক
ফেনীতে বিজিরিব অভিযানে ৬৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ
জুলাই সনদ সংস্কার ও ভারতে মুসলমান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
শুষ্ক মৌসুমেই সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ডানতীরে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অর্ধশত বসতভিটা, গাছপালাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
যমুনা নদীর এই আকস্মিক এই ভাঙনে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি, জালালপুর ও ব্রাহ্মণগ্রাম, হাটপাচিল, আর কান্দিসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ। ভাঙন কবলিত অসহায় মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিয়ে জীবন যাপন করছে। আর নদী তীরবর্তী মানুষেরা ভাঙন আতঙ্কে তাদের বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে এই ভাঙন তাণ্ডব। অসময়ে যমুনায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ায় শাহজাদপুর ও এনায়েতপুরের প্রায় ৮টি গ্রামের অর্ধশত বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে নদীতে বিলীন হয়েছে বেশ কয়েকটি কাঁচা-পাকা স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। ভাঙনে সব হারানো অসহায় মানুষগুলো এখন ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ঘরবাড়ি আর ভিটেমাটি হারিয়ে কোনো মতে রান্নাবান্না করে চলছে তাদের মানবেতর জীবন। আর এখনো যারা নদীতীরে রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে তাদের প্রতিটি রাত কাটছে র্নিঘুম। অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতেই সঠিক সময়ে নদীতীর রক্ষা কাজ শেষ না হওয়ায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ভাঙনকবলিতদের।
ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো হারান শেখ বলেন, ৫ দিন আগেও আমার ভিটেমাটি সব ছিল। কিন্তু এখন আমার আর কিছুই নেই। ঘর বাড়ি ভেঙে সবকিছু পাশের মাঠে রেখেছি।
নদী তীরে বসবাসকারী রহমত আলী বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন আমার বাড়ির কাছে এসে ঠেকেছে। যখন তখন আমার বাড়িও নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। এতদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ কেরানীগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, অসময়ের এই ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে কজ চলমান রয়েছে। সেইসঙ্গে নদী ডানতীরে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলছে।
জেলার এনায়েতপুর থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত সারে ৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনার নদীর ডানতীরে স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :