মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাঁধ গড়িয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে মুহুরি নদীর পানি হু হু করে বেড়েই চলছে। এরপর ফলে মুহুরি নদীর ফুলগাজীর বেড়িবাঁধ গড়িয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
স্থানীয়রা জানান,ফুলগাজীর জগতপুর ব্রিজের দক্ষিণে মনিপুর এলাকায় মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, সোমবার সকাল থেকে নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশ পানি উপচে আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকে নিম্মাঞ্চল পানি জমতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক কবীর আহমেদ বলেন, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জানমাল ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচে, পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে
মুহুরী নদীর পানি আজ (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সকাল ৬:০০টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯.৩৫ মিটার, যা বিকাল ৩:০০টায় ১১.৪৫ মিটারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, মাত্র ৯ ঘণ্টায় নদীর পানি ২.১০ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফেনী সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি
পরশুরাম স্টেশনে মুহুরী নদীর বিপদসীমা (Danger Level) ১২.৫৫ মিটার। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ১.১০ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে সকাল ১১:০০টা থেকে দুপুর ১২:০০টার মধ্যে সর্বাধিক ০.৫১ মিটার পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজান থেকে প্রবাহিত পানির চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি, উজানের বৃষ্টিপাত এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসমূহ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :