বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
আওয়ামী লীগের অভিযাত্রায় নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারঃদ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ ডিসেম্বর(২০২৩) ‘স্মার্ট বাংলাদেশ : উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’— এই স্লোগানে এবারের ইশতেহার দিয়েছে একটানা তিন মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ।
জানা গেছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ পদক্ষেপ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজারমূল্য ও আয়ের মধ্যে সঙ্গতি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, যা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্জিত হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩১ লাখ যুবকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০৩০ সাল নাগাদ অতিরিক্ত দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা সংবলিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের স্লোগান ছিল— ‘দিনবদলের সনদ’। সেই ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ছিল দলটির। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির ইশতেহারের শিরোনাম ছিল—‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। আর সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহারের শিরোনাম ছিল—‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’।
লেখাবাহুল্য, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে বিএনপি-জামায়াত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষত জোট সরকারের মেয়াদকালে। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েও জনগণের জন্য কিছুই করতে পারেনি খালেদা জিয়া সরকার। পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে শেখ হাসিনা সরকার রূপকল্প-২০২১-এর ঘোষণা দিয়েছিল। দিনবদলের সনদ হিসেবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার পর নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ২০১৪ ও ২০১৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন জননেত্রী।
আরও পড়ুনঃ স্যুটকেসে রাখা হয় বোমা, রিমোট কন্ট্রোলে বিস্ফোরণ
আসলে নেতৃত্বের অসামান্য গুণে আওয়ামী লীগ সবসময় রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণে এগিয়ে থাকে। এজন্য শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে সব সময়ই যে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, এমন দাবি করব না তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যা বলি, তা বাস্তবায়ন করি।’ অর্থাৎ অঙ্গীকার পূরণে শেখ হাসিনা সরকার সবসময়ই আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠার পরিপোষকতা প্রদর্শনই অসামান্য সব উন্নয়নের জয়রথ নির্মাণ করেছে। অথচ ‘নির্বাচন এলেই মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং উন্নয়নবিরোধী একটি চক্র ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে সক্রিয় হয়ে ওঠে- বলেছেন শেখ হাসিনা।
তার মতে, ‘নির্বাচনে কূটকৌশল অবলম্বন বা কারচুপির মাধ্যমে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে তারা আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে। সফল না হলে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিশোধ স্পৃহায়। অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহন পোড়ানো, বোমাবাজি, নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ভীতি-সন্ত্রস্ত করে ঘরবন্দি করতে চায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০২৩ সালেও অপশক্তির তৎপরতার ব্যতিক্রম হয়নি। তার ওপর এবার তারা বিদেশ থেকেও কলকাঠি নাড়ছে।’ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সময় এসেছে। এক্ষেত্রে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ সকল জনগণের, শেখ হাসিনা সরকারে আস্থা সব বাঙালির।
আপনার মতামত লিখুন :