বিজ্ঞপ্তি :

সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2023 :- বহির্বিশ্ব সহ বাংলাদেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় (আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আবেদনের যোগ্যতা :- বয়স:- সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা:- আবেদনকারীকে সর্বনিন্ম এইচএসসি পাশ হতে হবে। কমপক্ষে ১ বছরে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। (তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হতে হবে অথবা কমপক্ষে ১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।) অতিরিক্ত যোগ্যতা:- স্মার্ট ফোন থাকতে হবে। নিজেদের প্রকাশিত নিউজ অবশ্যই নিজে ফেসবুকে শেয়ার করতে হবে একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে হবে। এছাড়াও প্রতিদিন অন্তত ০৩ টি নিউজ শেয়ার করতে হবে। (বাধ্যতামূলক) অবশ্যই অফিস থেকে দেয়া এ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। নিউজের ছবি এবং নিউজের সঙ্গে ভিডিও পাঠাতে হবে ( ছবি কপি করা যাবে না কপি করলে তা উল্লেখ করতে হবে)। বেতন ভাতা :- মাসিক বেতন ও বিজ্ঞাপনের কমিশন আলোচনা সাপেক্ষে। আবেদন করতে আপনাকে যা করতে হবে :- আমাদের ই-মেইলের ঠিকানায় ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত (Cv), সিভির সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র এর কপি, সর্ব্বোচ্চ শিক্ষাগত সনদ এর কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, অভিজ্ঞতা থাকলে প্রমাণ স্বরুপ তথ্য প্রেরণ করতে হবে । মনে রাখবেন :- সিভি অবশ্যই নিজের ব্যক্তিগত মেইল থেকে পাঠাতে হবে। কারণ যে মেইল থেকে সিভি পাঠাবেন অফিস থেকে সেই মেইলেই রিপ্লাই দেওয়া হবে। ই–মেইল পাঠাতে বিষয় বস্তু অর্থাৎ Subject–এ লিখতে হবে কোন জেলা/ উপজেলা/ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি। আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা :- Email:- bondhantv@gmail.com টেলিফোন:- +8809638788837, +8801911040586 (Whatsapp), সকাল ৯টা থেকে রাত ১১.৫৯ পর্যন্ত। আমাদের নিয়োগ পদ্ধতি :- প্রথমে আপনার কাগজ যাচাই বাছাই করা হবে। আপনি প্রাথমিক ভাবে চুড়ান্ত হলে সেটি সম্পাদকের কাছে প্রেরণ করা হবে। সর্বশেষ সম্পাদক কর্তৃক চুড়ান্ত হলে আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে মোবাইল এবং ইমেল এর মাধ্যমে। আপনাকে আমাদের ট্রেনিং এবং অবজারভেশন ফেসবুক গ্রুপে এড করা হবে। তারপর আপনাকে ৫ দিন নিউজ পাঠাতে বলা হবে। এর পর চুড়ান্ত নিয়োগের ১ মাসের মধ্যে আপনার কার্ড প্রেরণ করা হবে। নিউজ পাঠানোর মাধ্যম:- আমাদের মেইল আইডি, মেসেঞ্জার গ্রুপ, ইউজার আইডির মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন। নিউজ অবশ্যই ইউনিকোড ফরমেটে পাঠাতে হবে। নিউজের সাথে ছবি থাকলে তা পাঠাতে হবে। নিউজের যদি কোন তথ্য প্রমাণ থাকে তবে তা প্রেরণ করতে হবে। বি:দ্র: সকল শর্ত পরিবর্তন, পরিমার্জন এবং বর্ধিত করনের অধিকার কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত। মন্তব্য: BondhanTv – বন্ধন টিভি আমাদের নিজস্ব আয়ে চ্যানেলটি পরিচালিত হয়। আমরা কোন গ্রুপ বা কোম্পানির অর্থ বা কোন স্পন্সরের অর্থদ্বারা পরিচালিত নয়।

সব সূচক নেতিবাচক ঝুঁকিতে ব্যাংক খাত


বন্ধন টিভি ডেস্ক
প্রকাশের সময় : আগস্ট ২১, ২০২৩, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
সব সূচক নেতিবাচক ঝুঁকিতে ব্যাংক খাত

ব্যাংক খাতের প্রায় সব সূচকেই নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোয় ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণও, যা ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি থেকে বেড়ে এখন ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য খাতের সব ঝুঁকি মিলে বাস্তবে এর পরিমাণ সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। মূলত খেলাপি ঋণ ও অবলোপন করা খেলাপি ঋণের বিপরীতে এবং অন্যান্য খাতে পর্যাপ্ত প্রভিশন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে মূলধন সংরক্ষণের দিক থেকে ১০ শতাংশের কম রয়েছে ১১টি ব্যাংকে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়লে ব্যাংক খাতে মূলধন সংরক্ষণের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। তবে এখানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো-বর্তমানে এ খাতের তিনজন বড় ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলেই ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঝুঁকিতে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ এখন বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ঋণ আদায় বাড়িয়ে এগুলো কমানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে ঋণ পুনঃতফশিল করে খেলাপির হার কমানো হলেও বাস্তবে সুফল মিলবে না। এজন্য ব্যাংকগুলোকে কঠোর হতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ছাড় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকারকে কঠোর আইন করতে হবে।

আইনের প্রয়োগ সব খাতে নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। এর বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের হার কমেছে। ফলে সার্বিকভাবে মূলধন সংরক্ষণের হারও কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী মূলধন না থাকায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গ্রাহকদের আমানত প্রবাহও কমেছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় তারল্য প্রবাহের মাত্রাও কমেছে। এজন্য অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ধুঁকছে। ডলার সংকটের কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই ঝুঁকি বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সুদহারের ঝুঁকি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি এর বিপরীতে ঝুঁকিও বেড়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা থেকে সার্বিকভাবে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে মূলধন রাখতে হয় কমপক্ষে ১০ শতাংশ। ঝুঁকির মাত্রা বেশি হলে এবং খেলাপি ঋণ বাড়লে ১২ শতাংশ রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংক খাতে মূলধন রাখার হার কম। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মূলধন সংরক্ষণের হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ায় গড় হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের হার কয়েক বছর ধরে কমছে। কিন্তু ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে এ হার বেড়ে গেছে। ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের হার ছিল ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ১৭ শতাংশে। ফলে গত এক বছরের তুলনায় পরিমাণের দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়েছে।

অপরদিকে ঋণ বিতরণের দিক থেকে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। শীর্ষ ৫ ব্যাংক ২৬ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি ৪১ শতাংশের বেশি। কেননা কিছু ব্যাংক সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে ঝুঁকিতে পড়েছে। আবার কিছু ব্যাংক সীমার চেয়ে অনেক কম ঋণ বিতরণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দায় ব্যাংকগুলোর গড় হিসাবে ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ঋণ ও আমানতের অনুপাতও সীমার চেয়ে কম। বর্তমানে প্রচলিত ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ ও ইসলামি ব্যাংকগুলো সাড়ে ৯০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু ব্যাংকগুলো গড়ে বিনিয়োগ করেছে ৮০ শতাংশের কম। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকায় তাদের আয় কমেছে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। এসব ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাড়তি তারল্যের জোগান দিতে হচ্ছে।

মূলধনের বিপরীতে শীর্ষ ৫ ব্যাংকের ঝুঁকি রয়েছে ৩২ শতাংশ। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি রয়েছে সাড়ে ৫৪ শতাংশ। সব ব্যাংক মিলে এ খাতে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

একইভাবে ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার বাড়ার কারণেও ব্যাংকগুলোয় ঝুঁকি বেড়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ৫ ব্যাংকের ঝুঁকি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে শুধু বিনিময় হারের কারণে সব ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে ২৯ শতাংশ। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ঝুঁকিও বেড়েছে। শীর্ষ ৫ ব্যাংকের পরিমাণগত ঝুঁকি বেড়েছে ২৬ শতাংশ এবং শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ৪৪ শতাংশ। সব ব্যাংকের পরিচালনগত ঝুঁকি রয়েছে ৮ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাতে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অবলোপন, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় খেলাপি করতে না পারা এবং খেলাপির তথ্য গোপন করা মিলে এর পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে বলে অনেকে মনে করেন। সেক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ আরও হবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংক খাতে মোট ঋণের মধ্যে ৭ থেকে ৮ শতাংশ নতুন ঋণ প্রতিবছর খেলাপি হচ্ছে। এতে পরিমাণভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। কিন্তু ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ায় শতকরা হারে খেলাপি ঋণ কমে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশের মতো। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ হার ৩ শতাংশের বেশি হলেই একে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের কারণেও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ঝুঁকিতে রয়েছে। পাঁচ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ থাকলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ব্যাংককে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত করে। এ হিসাবে সব সরকারি ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে। বেসরকারি খাতের ১৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকও ঝুঁকিতে।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে ঋণ আদায় ও ঋণ শ্রেণীকরণে শিথিলতা দেখানো শুরু হয়, যা কমবেশি এখনো চলছে। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কম হচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষ ছাড়ে ঋণ নিয়মিত থাকলে এর বিপরীতে সুদের একটি অংশ আদায় না করেও ব্যাংক আয় খাতে নিতে পারছে। এভাবে ব্যাংকগুলো সুদ আদায় না করেই কাগুজে মুনাফা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফলে এ খাতেও ব্যাংকের ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোয় আয়ের প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সেগুলো কাগুজে মুনাফা, বাস্তবে নয়। এ আয় দিয়ে ব্যাংকগুলোর টেকসই মূলধন প্রবৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না।

ব্যাংক খাতের প্রায় সব সূচকেই নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোয় ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণও, যা ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি থেকে বেড়ে এখন ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য খাতের সব ঝুঁকি মিলে বাস্তবে এর পরিমাণ সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। মূলত খেলাপি ঋণ ও অবলোপন করা খেলাপি ঋণের বিপরীতে এবং অন্যান্য খাতে পর্যাপ্ত প্রভিশন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে মূলধন সংরক্ষণের দিক থেকে ১০ শতাংশের কম রয়েছে ১১টি ব্যাংকে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়লে ব্যাংক খাতে মূলধন সংরক্ষণের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। তবে এখানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো-বর্তমানে এ খাতের তিনজন বড় ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলেই ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঝুঁকিতে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ এখন বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ঋণ আদায় বাড়িয়ে এগুলো কমানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে ঋণ পুনঃতফশিল করে খেলাপির হার কমানো হলেও বাস্তবে সুফল মিলবে না। এজন্য ব্যাংকগুলোকে কঠোর হতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ছাড় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকারকে কঠোর আইন করতে হবে।

আইনের প্রয়োগ সব খাতে নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। এর বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের হার কমেছে। ফলে সার্বিকভাবে মূলধন সংরক্ষণের হারও কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী মূলধন না থাকায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গ্রাহকদের আমানত প্রবাহও কমেছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় তারল্য প্রবাহের মাত্রাও কমেছে। এজন্য অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ধুঁকছে। ডলার সংকটের কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই ঝুঁকি বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সুদহারের ঝুঁকি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি এর বিপরীতে ঝুঁকিও বেড়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা থেকে সার্বিকভাবে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে মূলধন রাখতে হয় কমপক্ষে ১০ শতাংশ। ঝুঁকির মাত্রা বেশি হলে এবং খেলাপি ঋণ বাড়লে ১২ শতাংশ রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংক খাতে মূলধন রাখার হার কম। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মূলধন সংরক্ষণের হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ায় গড় হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের হার কয়েক বছর ধরে কমছে। কিন্তু ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে এ হার বেড়ে গেছে। ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের হার ছিল ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ১৭ শতাংশে। ফলে গত এক বছরের তুলনায় পরিমাণের দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়েছে।

অপরদিকে ঋণ বিতরণের দিক থেকে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। শীর্ষ ৫ ব্যাংক ২৬ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি ৪১ শতাংশের বেশি। কেননা কিছু ব্যাংক সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে ঝুঁকিতে পড়েছে। আবার কিছু ব্যাংক সীমার চেয়ে অনেক কম ঋণ বিতরণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দায় ব্যাংকগুলোর গড় হিসাবে ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ঋণ ও আমানতের অনুপাতও সীমার চেয়ে কম। বর্তমানে প্রচলিত ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ ও ইসলামি ব্যাংকগুলো সাড়ে ৯০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু ব্যাংকগুলো গড়ে বিনিয়োগ করেছে ৮০ শতাংশের কম। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকায় তাদের আয় কমেছে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। এসব ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাড়তি তারল্যের জোগান দিতে হচ্ছে।

মূলধনের বিপরীতে শীর্ষ ৫ ব্যাংকের ঝুঁকি রয়েছে ৩২ শতাংশ। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি রয়েছে সাড়ে ৫৪ শতাংশ। সব ব্যাংক মিলে এ খাতে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

একইভাবে ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার বাড়ার কারণেও ব্যাংকগুলোয় ঝুঁকি বেড়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ৫ ব্যাংকের ঝুঁকি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ঝুঁকি বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে শুধু বিনিময় হারের কারণে সব ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে ২৯ শতাংশ। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ঝুঁকিও বেড়েছে। শীর্ষ ৫ ব্যাংকের পরিমাণগত ঝুঁকি বেড়েছে ২৬ শতাংশ এবং শীর্ষ ১০ ব্যাংকের ৪৪ শতাংশ। সব ব্যাংকের পরিচালনগত ঝুঁকি রয়েছে ৮ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাতে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অবলোপন, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় খেলাপি করতে না পারা এবং খেলাপির তথ্য গোপন করা মিলে এর পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে বলে অনেকে মনে করেন। সেক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ আরও হবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংক খাতে মোট ঋণের মধ্যে ৭ থেকে ৮ শতাংশ নতুন ঋণ প্রতিবছর খেলাপি হচ্ছে। এতে পরিমাণভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। কিন্তু ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ায় শতকরা হারে খেলাপি ঋণ কমে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশের মতো। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ হার ৩ শতাংশের বেশি হলেই একে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের কারণেও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ঝুঁকিতে রয়েছে। পাঁচ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ থাকলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ব্যাংককে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত করে। এ হিসাবে সব সরকারি ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে। বেসরকারি খাতের ১৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকও ঝুঁকিতে।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে ঋণ আদায় ও ঋণ শ্রেণীকরণে শিথিলতা দেখানো শুরু হয়, যা কমবেশি এখনো চলছে। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কম হচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষ ছাড়ে ঋণ নিয়মিত থাকলে এর বিপরীতে সুদের একটি অংশ আদায় না করেও ব্যাংক আয় খাতে নিতে পারছে। এভাবে ব্যাংকগুলো সুদ আদায় না করেই কাগুজে মুনাফা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফলে এ খাতেও ব্যাংকের ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোয় আয়ের প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সেগুলো কাগুজে মুনাফা, বাস্তবে নয়। এ আয় দিয়ে ব্যাংকগুলোর টেকসই মূলধন প্রবৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না।

 

Spread the love
Link Copied !!