ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন সি১০০আই আনল রিয়েলমি, এক চার্জে চলবে তিনদিন
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার আসামি সাইফুল গ্রেফতার
ঢাকাস্থ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ঐক্য ফোরামের আত্মপ্রকাশ
যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিক ভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুলের (বরুই) বাজার। আম এবং কুল মৌসুমে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সব আড়ৎ গুলো। প্রতিদিন এখান থেকে দেশের রাজধানী সহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হচ্ছে এই মৌসুমী ফল কুল। বতর্মানে এই অঞ্চলের অর্থকারী ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ পেয়েছে কুল।
প্রতিদিন ব্যাপক হারে বহিরাগত ক্রেতা আসছে হাটে। তারা পছন্দ করে তার দর দাম করে কুল কিনছেন। এরপর ভাড়ার গাড়ি বা নিজেদের গাড়িতে কুল পরিবহন করছেন। কোথাও কোথাও এই ফলটিকে চেনে আবার বরুই ফল হিসাবে। যশোর সাতক্ষীরার মানুষ তাকে কুল বলে অভিহিত করে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা হচ্ছে এই কুল বাজারে।
যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও কলারোয়া উপজেলার মাঠ সহ আশেপাশে আরো মাঠ জুড়ে চাষ হচ্ছে এই লাভ জনক ফসলটি। তাইতো দিনে দিনে অন্য কৃষকেরাও ঝুঁকছেন এই কুল চাষে।
কুলের বাজার দরঃ বল সুন্দরী আগে ১৩০ টাকা এখন ৭০, থাই কুল আগে ১৮০ টাকা এখন ৬০, টক কুল আগে ১৫০ টাকা এখন ৬০ চায়না আগে ৭০ এখন ৪০, কাশ্মিরি কুল আগে ছিল ৭০ টাকা এখন ৩০ টাকা।
স্থানীয় কুল চাষী আতাউর রহমান জানান, আমি দশ বছর ধরে ফুল চাষ করছি ,এ বছর আমি দশ বিঘা কুল চাষ করছি ,গত বছর ও আট বিঘা কুল চাষ করছিলাম, গত বছরের থেকে এ বছর আমার অনেক কুল হয়েছে এবং অনেক দামে কুল বিক্রয় করছি, এভাবে যদি শেষ পর্যন্ত বিক্রয় করতে পারি তাহলে এ বছর আশানুরূপভাবে অনেক লাভবান হতে পারব ইনশাল্লাহ।
আরও পড়ুনঃ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরে বিএনপি না জামায়াত হ্যাঁ
এই বাজার সম্বন্ধে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিগত ১০ বছর ধরে কুল চাষ করছি আমি এর আগে আরো অন্যান্য বাজারে কুল বিক্রয় করেছি কিন্তু বেলতলা বাজারে কুল বিক্রয় করে যে মজা এবং শান্তি পাইছি আর কোথাও পাইনি। কারণ এখানকার আড়ৎদারা সঠিক দামে এবং সঠিক ওজনে কুল বিক্রয় করে এবং টাকা নিয়ে কোন নয়-ছয় করে না।
ঢাকা জামালপুর থেকে আসা কুল বেপারী পরেশ চন্দ্র সরকার ও তহিদুর রহমান জানান, আমি ১৫ বছর যাবত আম ,কুল, তরমুজ, আনারস সহ বিভিন্ন ফলের ব্যবসার সাথে জড়িত আছি সেই সূত্রে প্রতিবছরই বেলতলার এই ফলের মোকামে আসা হয়।এ বছর দেশে কুলের ফলনটা আশানুরূপভাবে অনেক বেশি। তারপরেও কুলের দাম অনেক বেশি আমরা যেমন বেশি দামে কিনতেছি ঠিক তেমন বেশি দামি বিক্রয় করছি। চাহিদা বেশি থাকায় আমরা কুল কিনে ভালো দামে বেচতে পেরে অনেক খুশি ও লাভবান এবং চাষীরাও লাভবান।
বাজারের স্থানীয় আড়ৎদার আল-উজায়ের (সুজন), আব্দুর রাজ্জাক ও এই বেলতলা বাজারের আরেকজন আড়ৎদার আবুল কালাম (আজাদ) জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কুলের ফলন অনেক বেশি। আর সেই সাথে কুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় আমাদের ব্যবসা এবছর ভালো এবং চাষীরাও অনেক খুশি।
আমাদের এই বেলতলা বাজারে চাষিরা নিঃসন্দেহে সঠিক ওজনে এবং সঠিক মূল্য ফল বিক্রয় করতে পারে তাই আমারা সকল চাষীকে বিনয়ের সাথে আহবান করব তারা যেন আমাদের এই বাজারে কুল বিক্রয় করতে আসে। এ বাজারে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কুল ক্রয় বিক্রয় করা হয়।
আরও পড়ুনঃ যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতির নির্বাচনে ৪২ প্রার্থী গণসংযোগে ব্যস্ত
বেলতলা বাজারের ফল ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ লোকমান হোসেন জানান, তারা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরিশেষে তিনি আরো বলেন গত দুই এক বছর এর তুলনায় এ বছর যেমন অনেক কুল চাষ করেছে এবং তারা অনেক বেশি লাভবান হয়েছে ঠিক এভাবে যদি আরো ২-১ বছর যায়, আমি আশাবাদী বেলতলা বাজার বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিখ্যাত (আম বাজার) হিসাবে যে একটা খ্যাতি অর্জন করেছে ঠিক তেমনি কুল বাজার হিসাবেও একটা পরিচিতি লাভ করবে ইনশাল্লাহ।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান, এ বছর মোট ৭০ হেক্টর জমিতে ৩০০ জন চাষী কূল চাষ করেছেন।
পাশাপাশি তিনি আরো জানান, বেলতলা বাজার পরিদর্শন করে আমি যেটা দেখলাম হাতেগোনা কিছু জাত যেমন বল সুন্দরী, থাই, আপেল, চাইনা, টক এই কুল গুলোই এ বছর চাষিরা বেশি চাষ করছেন এবং তারা লাভবানও হয়েছেন। তাই তারা আগামী বছরেও এই লাভজনক ফল কুল চাষ করবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, যশোর ও সাতক্ষীরায় বানিজ্যিক কুল চাষ করে সফল কৃষক।
আপনার মতামত লিখুন :