বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই প্রতিশোধ নিয়েছে। গত ১৫ বছর এই দলটি গায়ের জোরে গদি দখল করে রেখেছিল। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে অন্যের বাড়ি বিক্রি করে। অথচ যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তখন কোনো কথা বলে না। জবাব দেয় দেশপ্রেমিকরা। জামায়াত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শুক্রবার ২৯ ডিসেম্বর সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত আমির আরো বলেন, শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার এদেশকে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। ব্যাংকে টাকা নেই। রিজার্ভ শূন্যের কোটায়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার। মানুষ এক প্রকার আগুন মূল্যে পণ্য খাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা তাতে বাজারে যাওয়া ক্রেতা সাধারনের দায় হয়েছে। তারা সিন্ডিকেট করেছিল। তবে, একটি সিন্ডিকেট পালালেও নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে। নতুন করে আবির্ভাব হচ্ছে চাঁদাবাজ ও দখলদার। ৫ আগস্টের পর নতুন এই বাংলাদেশে চাঁদাবাজ ও দখলদার থাকবে না। এসবের মধ্যে আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা হলেও রিজার্ভ বাড়িয়েছে। ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিগত স্বৈরাচারের আমলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামায়াত। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের তারা হত্যা করেছে। সারাদেশে কার্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লাখ লাখ মামলা করেছে। শেষ পর্যন্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের জমিদারি নিয়েছিল। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
জামায়াত ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে। সংগঠনকে যদি আল্লাহতায়ালা রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য কবুল করেন তাহলে সব নাগরিককে সমান চোখে দেখবে। আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকবে না। কারও অধিকার খর্ব করা হবে না।কেউ কেউ জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে নারীকে ঘরবন্ধী করা হবে বলে অপপ্রচার করে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের যোগ্যতা অনুসারে কাজে লাগানো হবে।
কোরআনের রাজ্য কায়েম হলে নারীরা সম্মানিত হবেন। অমুসলিমরা যথাযথ নিরাপত্তা পাবেন। এদেশে চাঁদাবাজ দখলদার থাকবে না। থাকবে না কোনো বৈষম্য। ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ আধিপত্যবাদ মানবে না। মানবিক বাংলাদেশ হবে।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা না, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।
আরও পড়ুনঃ রাশফোর্ডকে নিয়ে কী হচ্ছে ইউনাইটেডে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যশোর একটি পুরাতন জেলা। এখানে এখনো কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ থাকলেও নেই কোনো পার্ক, জলাকার। অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও নেই। এই শহরকে নগরে পরিণত করা দরকার। সারাদেশে সুষম উন্নয়ন হওয়া দরকার। কোনো জেলা যেন উন্নয়ন বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে চাঁদাবাজি, দখলদারের অস্তিত্ব থাকবে না। ঘুস থাকবে না।
কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মাওলানা আজিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা আমির অধ্যাপক আলী আযম, সাতক্ষীরা জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, শহিদ আবদুল্লাহর পিতা আবদুল জব্বার, যশোর জেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর পূর্ব জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল আজিজ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, যশোর জেরা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল কাদের প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :