ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সোহাগ ভূঁইয়া
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন সি১০০আই আনল রিয়েলমি, এক চার্জে চলবে তিনদিন
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার আসামি সাইফুল গ্রেফতার
আগামী ৪ঠা মে থেকে দেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোট চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন।
যশোরের আট উপজেলার নির্বাচন হবে তিন ধাপে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে দু’টি, দ্বিতীয় ধাপে তিনটি ও তৃতীয় ধাপে তিনটি উপজেলায় হবে এই নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন এমনই সূচি প্রকাশ করেছে। প্রার্থী ও তাদের অনুসারিরা শহর ও গ্রামে গ্রামে প্রার্থীতার পক্ষে জনমত গড়তে গণসংযগ করছেন। জামায়াতে ইসলামী যশোরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীতা দেবেন ঘোষনা দিয়েছেন।
তবে বিএনপি বলছে ভিন্ন কথা। বিএনপির নেতারা মাঠে ময়দানে বলে বেড়াচ্ছেন তারা উপজেলা ভোটে অংশ নেবে না। তবে নেতাদের একাংশ স্থানীয় সরকারের অধীনে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহনে আগ্রহী। সাধারন বিএনপি কর্মীদের বড় একটি অংশও এই নির্বাচনে অংশ গ্রহনের পক্ষে।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে যশোরে বিএনপি ও জামায়াত ভিন্ন কথা বলছে। বাংলোদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বলছে, তারা এখনই নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে ভাবছে না। জামায়াতে ইসলামী বলছে তারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জোরেসোরে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৪ মে প্রথম ধাপের নির্বাচনে যশোরের দু’টি উপজেলা থাকবে।
এই দু’টি উপজেলা হচ্ছেঃ
ক) মণিরামপুর
খ) কেশবপুর।
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১১ মে। দ্বিতীয় ধাপে হবে তিনটি উপজেলায়। উপজেলা তিনটি হচ্ছেঃ
ক) চৌগাছা
খ) ঝিকরগাছা
গ) শার্শা।
১৮ মে হবে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন। এই নির্বাচনে থাকবে তিনটি উপজেলা। উপজেলা তিনটি হচ্ছেঃ
ক) সদর
খ) অভয়নগর
গ) বাঘারপাড়া।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বসে নেই বিরোধী শিবিরের দলও। যশোরে ইতিমধ্যে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী উপজেলা নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেবল প্রস্তুতি নিচ্ছে না, প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেবে বলে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন। এ মাসের শেষে কোন উপজেলায় কারা প্রার্থী হচ্ছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতির নির্বাচনে ৪২ প্রার্থী গণসংযোগে ব্যস্ত
অপরদিকে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতারা এখনো পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সিরিয়াসলি কিছু ভাবেননি। নেতারা নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে এখনো সন্দিহান।
জেলা পর্যায়ের এক নেতা রোববার বিকেলে বলেন, কেন্দ্র থেকে তাদের এখনো পর্যন্ত কিছুই বলা হয়নি। এ কারণে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তারা এখনই মন্তব্য করতে ইচ্ছুক না। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসলে তখন সিদ্ধান্ত নেবেন।
যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন মিডিয়াকে বলেন, কেন্দ্র চূড়ান্তভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমার জানা নেই।
বিএনপির জোটভুক্ত দল জামায়াতে ইসলামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে শোনা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত এখন আর আমাদের জোটভুক্ত না। তারা তাদের মতো সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের সিদ্ধান্ত আমাদের মতো হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা চাই এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সমান সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে (নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ) নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণ (সাধারণ ভোটাররা) অনেকগুলো বিকল্প থেকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন-বর্তমানে দেশে এমন পরিস্থিতি অনুপস্থিত।
যে নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ, যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না, যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না, সেই নির্বাচনী ব্যবস্থায় অন্ততঃ আমার কোনো আস্থা নেই। আমার বিশ্বাস, এগুলো বিবেচনায় নিয়েই আমাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং আমরা মাঠ পর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
আপনার মতামত লিখুন :