বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে ছয় বছর চলছে যশোর জেলা বিএনপি। পাশাপাশি জেলার ১৬ শাখার মধ্যে ৯টি শাখাও চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। সাতটি উপজেলা শাখা দীর্ঘদিন ধরে চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এ সাত উপজেলায় ১৬ বছরে হয়নি সম্মেলন। আর সদর উপজেলায় মাত্র তিন পদে চারজন নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জেলার ৭ পৌর শাখা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যশোর জেলা ও আট উপজেলায় সম্মেলন ও কমিটি গঠন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশা।
নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, যশোর শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশ। উপজেলার রাজনীতিতেও ফুরফুরে মেজাজ। তবে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ পতনের পর পরিস্থিতি অনুকূলে এমনি ভাবছে জেলা বিএনপি। তবে তৃণমূলে বিরাজ করছে অসন্তোষ। জেলার শীর্ষনেতারা যদিও বলছেন, ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও চলমান আন্দোলনে সেটি ঝিমিয়ে পড়েছে। তার পরও আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে আন্দোলন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা নেই বলা যায়। এক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলার আহ্বায়ক কমিটিই ভরসা। এ মুহূর্তে দল আন্দোলনমুখী। প্রায় প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থাকছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কমিটি গঠনে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় নতুন কমিটি করলে কোন্দল চাঙ্গা উঠবে। এতে আন্দোলন ও নির্বাচনী তৎপরতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন : যশোরে আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ উত্তীর্ণের ১০ বছর পর ২০১৮ সালের ২০ মে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল যশোর জেলা বিএনপির কমিটি। দলীয় কার্যালয়ে নির্বাহী সভায় কমিটি ভেঙে ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সদস্য সচিব করা হয় অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে।
আহ্বায়ক কমিটিকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ছয় বছর। জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারেনি জেলা বিএনপি। পাশাপাশি আট উপজেলার সাংগঠনিক অবস্থাও অগোছালো। আটটি উপজেলার মধ্যে এক যুগ পর ২০২২ সালের ৭ জুন শুধু সদর উপজেলার আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি, সম্পাদক ও দুইজন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কিন্তু এক বছর তিন মাস পার হয়ে গেলেও নেতৃবৃন্দ পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি এ কমিটির। অন্য সাত উপজেলা শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলায় ১৫ বছরের বেশি সময় সম্মেলন হয়নি। আর গত পাঁচ বছর ধরে চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।
এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ। তারা বলছেন, ইউনিয়ন ও উপজেলাতে সাংগঠনিক কমিটি না থাকায় তৃণমূলের রাজনীতিতে অনেকটা ভাটা পড়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তৃণমূলে কার্যক্রম অগোছালো। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার আগ্রহ কম রয়েছে নেতাদের মধ্যে।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান বলেন, আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠন। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিও নেই অনেক দিন। তবে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, উপজেলা শীর্ষনেতাদের কোন্দল প্রকট। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হতে পারে। এই আশঙ্কায় আহ্বায়ক কমিটির নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেননি। ফলে পদ পেতে ইচ্ছুক নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এতে দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও এরই মধ্যে দুই গ্রুপ কয়েক দফা কলহে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে।
যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বনবলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠন না হলেও প্রক্রিয়া ৮০ ভাগ শেষ। এরপর উপজেলার কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে হামলা-মামলার শিকার ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে। তবু গায়েবি মামলার জট নেতাকর্মীর ঘাড়ে। একই সাথে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তারপরও আমরা যথা সম্ভব সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :