বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ চান শিক্ষার্থীরা । গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) আহতদের দেখতে যান তারা। কিন্তু সবার সঙ্গে দেখা না করে ফিরে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার গাড়ি আটকে দেন আহত ও তাদের ক্ষুব্ধ স্বজনরা। এরপর দুপুর থেকে শ্যামলী-আগারগাঁও সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। এদিকে দুপুরের পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন ওই এলাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আহতরা। তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দেন।
আন্দোলনে আহত মো. হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার তাদের পছন্দের বিদেশি পাঁচ সাংবাদিক নিয়ে এসেছেন; আমাদের দেশীয় কোনো সাংবাদিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা দু-একজনের সঙ্গে কথা বলে চলে গেছেন। আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। আমরা কথা বলতে গেলেও আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সামান্য ট্রিটমেন্ট দিয়ে তিন মাস বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমার পায়ে ৯টি অপারেশন করা হয়েছে, তার পরও এখন পর্যন্ত সুস্থ হতে পারিনি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভিড়ের মধ্যে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করে একদল মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, হাইকমিশনারসহ সবাই তাদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে বিপুল পরিমান বিদেশী মদসহ গ্রেফতার-১
ঘটনাস্থলে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ: এদিকে রাত ১২টার পর এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও আহত ও তাদের স্বজনদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। এর আগে রাত পৌনে ৮টার দিকে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ অবরোধস্থলে গিয়ে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। এরও আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আন্দোলনে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। তিনি আহতদের সুচিকিৎসা ও প্রয়োজনে বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের হৈচৈয়ের মুখে স্নিগ্ধ কথা শেষ করতে পারেননি। আন্দোলনকারীরা উল্টো স্নিগ্ধকে তাদের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে অনুরোধ করেন।
বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদকে ঘটনাস্থলে আসার দাবি জানান। তারা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে সরবেন না বলে ঘোষণা দেন। পরে তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না বলে শ্লোগান দেন। অন্য উপদেষ্টারা গেলে তাদের সামনে দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন বলে তারা জানান।
আপনার মতামত লিখুন :