ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সোহাগ ভূঁইয়া
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন সি১০০আই আনল রিয়েলমি, এক চার্জে চলবে তিনদিন
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার আসামি সাইফুল গ্রেফতার
সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে যশোর। এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কিশোর গ্যাং। বড় ভাই এসব কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে। এসব কিশোর গ্যাং ইয়াবা মাদকে আসক্ত। ভয়ঙ্কর অবৈধ মাদক দ্রব্য ইয়াবার ঘোরে কিশোর গং নানা অপকর্মে সম্পৃক্ত। তুচ্ছ কারনে এরা যাকে তাকে খুন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাত বাড়ালেই যশোরে পাওয়া যাচ্ছে ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য ট্যাবলেট ইয়াবা। যশোরের মহল্লায় মহল্লায় এসব নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। কিন্ত দেখার কেউ নেই। তথাকথিত শান্তি কমিটির সামনে পিছনে, ডানে বামে এসব মাদক দ্রব্য ওপেন বিক্রি হলেও নিষেধ করার মত কেউ নেই। কখনো সখনো মাদকের ডেরায় প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে দু একজনকে আটক করলেও মাদক ব্যবসায়ির রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে নতুন কেউ এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মাদক দ্রব্য বিক্রিকারীরা নানা পন্থা বা কৌশল ব্যবহার করে। ওদের এসব চতুরতায় বিভ্রান্ত প্রশাসনিক সদস্যরা। একারনে অভিযান চললেও সফলতা কম। আর সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগিয়ে রমরমা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে সমাজের দুশমন মাদক কারবারি ও তাদের হোতা এজেন্টরা।
সূত্র জাানয়, সকল কিশোর গ্যাং ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবায় আসক্ত। এরা এসব নেশা করে সারা রাত জাগে আর হরেক অপরাধ করে। এরপর সকালে ঘুমাতে যায়। দুপুর বারটা পর্যন্ত তারা নেশার খেয়ালে ঘুমায়। আর জেগে উঠে ভর দুপুরে তারা আবারো ইয়াবা কেনার টাকা যোগাড় করে। এরপর আবারো সেই একই নেশা। টাকার জন্য এসব মাদকাসক্তরা এমন কোন অপরাধ নেই যে করছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সমাজপতি বলেছেন, এসব কিশোর গ্যাং সদস্য বা তাদের প্রশ্রয়দাতারা ভদ্রতা সামাজিকতা কি তা জানেনা। এরা তুচ্ছ কারনে খুন করে। এদের দিয়ে তাদের হুকুমদাতা বড় ভাইরা চাঁদাবাজি, মারামারি, হুমকি ধামকি, ভাংচুর তান্ডব চালায়। অনেক সময় তাদের অপরাধ এত বড় হয়ে যায় যে, তা বড় ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
এসব সমাজপতিরা বলেন, অতি তুচ্ছ কারনে এসব কিশোর গ্যাং খুন করছে। এরা অতি ক্ষুদ্র সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ টার্গেট করে খুন করে। সরেজমিনে জানা যায়, সামান্য কথা কাটিাকাটির মত বিষয়কে গুরুতর অপরাধ বিবেচনায় এসব খুন হচ্ছে। এমনই একটি খুন কান্ড শনিবার ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠীর সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী চয়ন দাস।
বিভিন্ন মহল্লার স্থানীয়রা জানান, কতিপয় পুলিশের সোর্স এবং আড়ালে থাকা কোন কোন পুলিশ প্রতিনিধি দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে।
আরও পড়ুনঃ যশোর মেডিকেলের ৩৫ কর্মচারীর নিয়োগ জটিলতায় বেতন বন্ধ
তবে এবিষয়ে যশোর প্রশাসনের একজন সদস্য বলেছেন, আসলে পুলিশ মাদক ব্যবসায় জড়িত এমন নয়। কোন কোন সোর্স পুলিশের অজানায় হয়তোবা মাদক ব্যবসা দেখ ভাল করে থাকে। তবে সেটিও গুরুতর অপরাধ। কেননা বর্তমান সরকার ও পুলিশ প্রশাসন মাদক সন্ত্রাস ও আগ্নেয়াস্ত্র কেন্দ্রিক বিষয়ে জিরো টলারেন্সে রয়েছে।
মহল্লা কেন্দ্রিক জরিপে দেখা যায়, অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং ম্যাক্সিমাম সদস্য ইয়াবা নেশায় আসক্ত। দু একজন তাতে অভ্যস্ত না হলেও গাঁজা ফেন্সিডিলে আসক্ত। এরা চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অবৈধ খাত থেক যে টাকা পায় তা দিয়ে নেশার খরচ চালায়।
অন্য একটি সূত্র জানায়, শুধু কিশোররাই যে ইয়াবা নেশায় জড়িত তা নয়। অনেক যুবক, ব্যক্তিও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ইয়াবা নেশা করে। তবে এরা থাকছে ধরাছোয়ার বাইরে।
কয়েকটি সূত্র জানায়, যশোর রেলগেট রায়পাড়া ঝিলপুকুর এলাকার দুই ভাই ছোট-সেকেন্দার, রেলগেট মুজিবসড়কের নারী ডালিম, লাইলী, ডালিমের ছেলে আল আমিন ইয়াবা পাইকরি ও খুচরা বিক্রি করে থাকে। এরা প্রকাশ্যেই এসব ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করলেও কেউ তাদের এসব অপরাধে বাঁধা দেয় না।
আপনার মতামত লিখুন :