বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসাকে সিঙ্গাপুরে নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা। আইসিইউতে সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসাকে নিয়ে ‘আশা না ছাড়ার’ লড়াই করছেন মা–বাবা ও চিকিৎসকেরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাসার নিচে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় মুসা। তাকে নিয়ে ৮১ দিন ধরে চলছে এই লড়াই। এই সময়ের মধ্যে অল্প কয়েক দিন ছাড়া শিশুটি পুরোটা সময় লাইফ সাপোর্টে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য মুসাকে এখন সিঙ্গাপুরের মতো দেশে পাঠানো দরকার। তাঁরা আশা করছেন, উন্নত চিকিৎসায় শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই আশার সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা—অর্থসংকট। বিদেশে চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার, তা কে দেবে?
মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামণি দম্পতির একমাত্র সন্তান মুসা। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকার বাসার নিচে গুলিবিদ্ধ হয় মুসা ও তার দাদি মায়া ইসলাম (৬০)।
মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান। আর মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুসাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাকে ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
গত ২৬ আগস্ট মুসাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিএমএইচের নিউরোসার্জারি বিভাগে (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) স্থানান্তর করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালের শিশু নিউরোলজি বিভাগে।
মুসার মা হাহাকার নিয়ে বলেন, একমুহূর্তে তাঁর ছোট্ট পরিবারটিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ছেলের জন্য এখন উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু এই চিকিৎসা মুসার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে বলছেন। কিন্তু তাঁদের সেই আর্থিক সামর্থ্য নেই।
চিকিৎসকেরা জানায়, গুলি মুসার মাথার বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে বের হয়ে গেছে। তার মাথায় কোনো গুলি নেই। তবে গুলিতে মুসার মস্তিষ্ক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার শরীরের ডান পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মাথায় এখন অতিরিক্ত পানি তৈরি হচ্ছে। সাময়িকভাবে এই পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদ্ধতি ১৫ দিনের জন্য কার্যকর হয়। তবে এতে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার মুসার শান্ট সার্জারি করা হবে। এর মাধ্যমে বাইপাস করে পানি মস্তিষ্ক থেকে পরিপাকতন্ত্রের পেরিটোনিয়ামে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এটাও সাময়িক পদ্ধতি। এটা এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত রাখা যায়।
সিএমএইচে মুসা মূলত জ্যেষ্ঠ নিউরোসার্জন অধ্যাপক কর্নেল মো. আল আমিন সালেক ও পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল নাজমুল হামিদের অধীন চিকিৎসা নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় প্লাবিত ১২৩টি গ্রাম, বন্ধ ১৮৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
পরিবার জানায়, অধ্যাপক কর্নেল মো. আল আমিন সালেক গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুসার ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পরিকল্পনা তুলে ধরে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। লিখিত সুপারিশে তিনি বলেছেন, মুসার চিকিৎসায় আরও ভালো ব্যবস্থাপনার জন্য তাকে উন্নত জায়গায় পাঠানো দরকার। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে স্থানান্তরের জন্য তার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা লাগবে।
আরেক চিকিৎসক অধ্যাপক নাজমুল হামিদ বলেন, ‘মুসার মস্তিষ্কে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ছাড়া সে শ্বাস নিতে পারছে না। তার খিঁচুনিও আছে। এ অবস্থায় আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, মুসাকে যেন সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :