ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন সি১০০আই আনল রিয়েলমি, এক চার্জে চলবে তিনদিন
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার আসামি সাইফুল গ্রেফতার
ঢাকাস্থ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ঐক্য ফোরামের আত্মপ্রকাশ
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেে ইলাশপুর গ্রামে শনিবার দুপুরে নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম নতুন মাওয়া মিমি (২২)। নিহত জান্নাতুল মিমি ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিমি তার বাবাকে নিয়ে সকাল ১০ টার দিকে শ্বশুর বাড়িতে যায়। এরপর ওই বাড়িতে থাকা তার জা কমলার (স্বামীর মেঝো ভাইয়ের বউ) সাথে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে ভিতরের কক্ষে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এ সময় মাওয়ার বাবা আবদুস সাত্তার সামনের কক্ষে বসা ছিল।
কিন্তু হঠাৎ দুই জা এর মধ্যে ঝগড়া থেমে যায়। প্রায় আধা ঘন্টা পরও মেয়ের সাড়া শব্দ না পেয়ে এক পর্যায়ে ভিতরের কক্ষে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে। এরপর আর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মিমি পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেে ইলাশপুর গ্রামে ইসরাফিল হোসেন হৃদয়ের স্ত্রী। হৃদয় বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন। হৃদয়ের বাবার নাম কোব্বাদ আহম্মদ। ওই বাড়িতে হৃদয় ও তার বড় ভাই মোহাম্মদ ইউসুফের স্ত্রী কমলা বসবাস করতেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ঝগড়া চলছিল।
ইসরাফিল হোসেন হৃদয় মোবাইল ফোনে বলেন, মাওয়া মিমির সাথে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর বিয়ে হয় এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি সৌদি আরব চলে যান। তারপর থেকে তার স্ত্রী মাওয়া মিমি শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। মাঝে মাঝে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করে আবার চলে যান। কিন্তু বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে এবং তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর মধ্যে মুঠোফোনে কয়েকবার ঝগড়া হয়।
নিহত মাওয়া মিমি ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাছাড় গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছোট মেয়ে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মৃতদেহটি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইসরাফিল হোসেন হৃদয়ের স্ত্রী।
নিহতের ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, তার ভগ্নিপতি সাথে তার বোনের ভালো সম্পর্ক ছিল। ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়িতে আসার কথা ছিল। বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গেলে হৃদয়ের ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন।
আরও পড়ুনঃ ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন শনিবার সকালে তার মেয়েকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যাই এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে তাদের ভিতরে ঝগড়া হয় কিন্তু হঠাৎ ঝগড়া থেমে গেলে ভিতরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলছে। তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এক প্রবাসীর স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শর্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :