ঢাকাস্থ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ঐক্য ফোরামের আত্মপ্রকাশ
ইসরায়েলি সেনাদের ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ
ইরানের সামরিক অভিযান ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই’ সম্পন্ন হয়েছে : ট্রাম্প
দেশনেত্রী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের শাড়িকে ভারতের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই ঘোষণা নিয়ে গত সপ্তাহ থেকেই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে টাঙ্গাইলের শাড়ির পাশাপাশি নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা ও গোপালগঞ্জের রসগোল্লাকেও জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে ২৪ টি পণ্য।
বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায়ই কলা চাষ হয়। বারো মাসি ফল হিসেবে এর সুনাম রয়েছে। তবে, নরসিংদীর এই অমৃত সাগর কলা কেন জিআই পণ্য? অথবা গোপালগঞ্জের রসগোল্লারই কি এমন বিশেষত্ব রয়েছে যা এটিকে ভৌগোলিক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে?
নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা চাষ করেন এমন কয়েকজন চাষী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুঘল আমল থেকে এই কলার চাষ হয় এ এলাকায়। এর স্বাদ ও ঘ্রাণই একে অন্য কলার চেয়ে আলাদা করেছে। শুধুমাত্র নরসিংদীর মাটিই এই কলা চাষের জন্য উপযোগী। তেমনি, গোপালগঞ্জের রসগোল্লার রয়েছে ৮৬ বছরের ইতিহাস। দত্তের মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামে বংশ পরম্পরায় তিন প্রজন্ম এ রসগোল্লা তৈরির ব্যবসা করছেন।
এ মিষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হচ্ছে, যতটুকু না দিলেই নয় চিনি ততটুকু দেয়া হয়, দুধের মিষ্টিটাই এর অন্যতম অনুষঙ্গ। রোববারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ তিন পণ্যের স্বীকৃতির সনদ হস্তান্তর করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জিআই স্বীকৃতির এই গেজেট প্রকাশ করে।

মুঘল আমল থেকেই এই এলাকায় অমৃত কলার চাষ হয় বলে দাবি করেন জেলা কৃষি কর্মকর্তারা। ঢাকায় নিযুক্ত ২৯ জন মুঘল সুবেদার, ৪৮ জন ইংরেজ লর্ডসহ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শাসকদের জন্য এই অমৃতসাগর কলা সরবরাহ করা হতো।
শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রীয় অতিথিদেরও নরসিংদীর সাগর কলা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। এখনও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে এই কলার বিশেষ চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। বারোমাসি এই অমৃতসাগর কলার জন্য নরসিংদী বিখ্যাত।
এ কলা নরসিংদী সদর, পলাশ, রায়পুরা, ঘোড়াশাল, শিবপুর, শিলমান্দি ও মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা হয়। অমৃত সাগর কলার সাথে অন্য কোনো কলার তুলনা হয় না বলে জানান কলা চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। মাঝারি আকার ও হলুদ রঙের এ কলার স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়। অমৃত সাগর কলা পাকলে বাগান সুগন্ধে ভরে যায়। অমৃত সাগর কলাকে ‘নরসিংদীর ব্র্যান্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নরসিংদীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষর চন্দ্র বণিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নরসিংদীর মাটির গুণেই এই কলার মিষ্টি গন্ধ ও মিষ্টি স্বাদ হয়। এখানকার অম্লীয় লাল মাটি এই কলা চাষের জন্য যথার্থ। যে আবহাওয়া দরকার তা শুধু নরসিংদীর মাটিতেই রয়েছে”।
আরও পড়ুনঃ নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা ও গোপালগঞ্জের রসগোল্লা যে কারণে জিআই স্বীকৃত পেল
“এই কলা অন্য কোনো জেলায় রোপণ করলেও নরসিংদীর অমৃত সাগর কলার মতো গন্ধ ও স্বাদের হয় না”, দাবি মি. বণিকের। শুধু নরসিংদী জেলা সদরেই ৫০ শতাংশ অমৃত সাগর কলা চাষ হয়। যে কয়টি এলাকায় এই কলার চাষ বেশি হয় তার মধ্যে শিলমান্দি ইউনিয়ন অন্যতম।
এই ইউনিয়নে ৩৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। আর এর ২০০ হেক্টর জমিতেই শুধু অমৃত সাগর কলা চাষ হয় বলে জানান মি. বণিক। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, শিলমান্দি, মনোহরদি এসব ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়ির সাথেই অমৃত সাগর কলা গাছের বাগান দেখা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :