১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: ভোলায় স্পিকার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ আছে
মোংলায় বানৌজাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়তাবাদী শক্তি ক্ষমতায় থাকলে হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করে: তথ্যমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে স্কুল ছুটি, নভেম্বরের শুরুতে মিলছে টানা তিন দিনের ছুটি
সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের পরিবেশগত ও ব্যবস্থাপনাগত সংকট কাটাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি অবিলম্বে শতভাগ কার্যক্ষম করা এবং চামড়া খাতের বহুমুখী সমস্যা সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট ও যুগোপযোগী রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিগত বছরগুলোতে চামড়া খাতের ক্ষতি, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা জানান, পর্যাপ্ত চামড়া সংগ্রহ সত্ত্বেও উপযুক্ত মূল্য না পাওয়া এবং সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে দেশের এই সম্ভাবনাময় খাতটি মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
বৈঠকে সিইটিপির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান যে প্লটগুলো পুরোপুরি অকার্যকর না হলেও এর বর্জ্য ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এর মূল সমস্যা হলো ক্রোমিয়াম রিকভারি ব্যবস্থার অভাব। এই সংকট উত্তরণের জন্য ইতিমধ্যেই একটি ইতালীয় কোম্পানির মাধ্যমে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া চামড়া শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একাধিক মন্ত্রী ও দশটি সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বৈঠকে আরও উঠে আসে যে, শিল্পনগরীর বড় বড় কিছু কারখানা ইউটিলিটি বিল বকেয়া রেখে উৎপাদন বন্ধ রাখলেও তুলনামূলক ছোট কারখানাগুলো নিয়মিত বিল পরিশোধ করে পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম, তাদের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সহায়তা করা হবে।
চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন বা সময়সীমা নির্ধারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সভাপতি বলেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে চামড়ার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তাই আগামী সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংকটের টেকসই সমাধানের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ আবশ্যিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার ও ক্রোম রিকভারি ইউনিট স্থাপন কিংবা পরিবেশগত শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্লট মালিকদের জন্য সম্মানজনকভাবে শিল্পনগরী ছাড়ার বা ‘গ্রেসফুল এক্সিট’ পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী যেসব প্লট মালিক নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য এই প্রস্থান পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাভারের অনেক ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি বা ক্রোমিয়াম রিকভারি ইউনিট স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করলেও কিছু বড় প্লটের মালিক এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন রয়েছে।
হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকেই ঋণ ও সুদের চাপ, চলতি মূলধনের সংকট, নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে অর্থায়ন সমস্যা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের জটিলতা চামড়া শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে আসছে। এসব বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে শিল্পটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের অংশ হিসেবে চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী শিল্পমালিকদের জন্য ভেতরে খালি প্লট বরাদ্দের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিসিক ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিটিএ যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুযোগ পরীক্ষা করবে। এছাড়া যে সমস্ত কঠিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়, সেগুলোর নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করতে আধুনিক ল্যান্ডফিল স্থাপনেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :