পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে রাজধানীর চকবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেছিলেন যে সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য জনমনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সরাসরি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে আইজিপির ওই মন্তব্যটি একেবারেই ঠিক হয়নি এবং তা করা উচিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, পুলিশপ্রধান হয়তো সহজ-সরল মনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলেন, যা বলতে গিয়ে তিনি অসতর্কতাবশত ওই শব্দ চয়ন করেছেন। সরকারের নীতি পরিষ্কার করে তিনি জানান যে সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার সমর্থন করে না।
সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অপরাধ দমনে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে আইজিপির ওই বক্তব্যের পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে দীর্ঘদিন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দলের সরকারের আমলে এমন মন্তব্য অত্যন্ত বিব্রতকর। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেই ব্যাখ্যায় জানানো হয় যে পুলিশপ্রধান মূলত অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতেই ওই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, যা বিচারবহির্ভূত কোনো শাস্তির ইঙ্গিত বহন করে না।
আপনার মতামত লিখুন :