সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে বিগত এক শতাব্দী ধরে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর নানান উপায়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বর্তমান সময়ে এসে এই নিপীড়ন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং বুলডোজার দিয়ে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বজাতির লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে বলা হয়েছে যে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে আসামের নগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক অভিযানে হাজারের বেশি বাড়িঘর ও বহু মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে পরিচালিত বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া, আধার কার্ড প্রদানে বাধা দেওয়া এবং নানা অজুহাতে বিতাড়নের মতো ঘটনাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে বাংলাভাষী মুসলমানদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এই সংকটের ঐতিহাসিক শিকড় বহু পুরনো বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সাথে করিমগঞ্জ ও সিলেটের নাড়ির টান জড়িয়ে রয়েছে। উনিশ শতক থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলনের শহীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করে বলা হয় যে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান উভয়ই এই অধিকার সংগ্রামের অংশীদার ছিল। তবে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাংলাভাষী মুসলমানরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একসময় মাতৃভাষা পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। বর্তমানে উগ্র অসমীয়া জাতীয়তাবাদ এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদ একত্রে মিলে এই জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে ফেলছে, যা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চলমান এই মানবিক সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও শক্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেবল সীমান্ত পাহারা দেওয়া বা চিঠি পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি তুলে ধরতে হবে। একই সাথে দেশীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা যেন তৈরি না হয়, সেদিকেও কঠোর নজর রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিবেশী দেশের নিপীড়িত মানুষের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
আপনার মতামত লিখুন :