বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
৪ হাজার কোটি জামানত রেখে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ। নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে এস আলম গ্রুপ ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৭৩ হাজার ১১৩ কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে। এই অর্থ ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে এর বিপরীতে জামানত দেওয়া সম্পদের মূল্য মাত্র ৪ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকে এখন নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও তদন্ত চালাচ্ছে। তাদের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
কেবল একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যেভাবে একটি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করেছে, তা দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিত পেয়েছে। আর এই লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে ঋণ বের করার ক্ষেত্রে আর্থিকখাতের আইনকানুন ও নিয়মনীতির বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
আরও পড়ুন : খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
উচ্চ থেকে নিম্ন—সব পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সে কারণে ব্যাংকটি থেকে দেওয়া ঋণের অর্ধেক টাকা কেবল একজন পকেটে ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছেন।
আনিস এ খান, এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেয়। এরপর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। পাশাপাশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেও ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত জামানত রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এসব ঋণ আদায় হচ্ছে না।
বিভিন্ন নথিপত্রে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের সরাসরি ঋণের পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। তবে এর বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকার। গ্রুপটির পরোক্ষ ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানত ১ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঋণ ৯ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, যার বিপরীতে জামানত মূল্য ৮৮৬ কোটি টাকা। ফলে জামানত মূল্যের ১৬ গুণ বেশি ঋণ তুলে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। জামানত হিসেবে দেওয়া হয়েছে জমি, কারখানা, ব্যাংকের শেয়ার ও নগদ টাকা।
কোনো ব্যাংক তাদের পরিচালকদের নিজ শেয়ারমূল্যের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ঋণ দিতে পারে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যবসায়ী গ্রুপকে সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ঋণের টাকা আদায় হচ্ছে না বললেই চলে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের প্রকৃত হিসাব ব্যাংকের নথিতে তুলে ধরা শুরু হয়েছে। ফলে ব্যাংকের খেলাপি হয়ে পড়া ঋণ হু হু করে বাড়ছে। গত জুনে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ২৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ থেকে নিম্ন—সব পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সে কারণে ব্যাংকটি থেকে দেওয়া ঋণের অর্ধেক টাকা কেবল একজন পকেটে ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছেন। ব্যাংক দখলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাও ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্নীতির এ ক্ষত সারিয়ে ব্যাংকটির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই কঠিন।
আপনার মতামত লিখুন :