বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল কি কোনো প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের ওপরে? প্রশ্নটা উঠছে, কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে এখন বিশেষ একধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে। অভ্যুত্থান–পরবর্তী দ্রুততম সময়ে বিশেষ এ সরকারের প্রয়োজন ছিল পশ্চিমা ও তার মিত্রদের সমর্থন। সেটি তারা বেশ ভালোভাবেই অর্জন করেছে । কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর সেটিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
সবশেষ সে আলোচনায় জ্বালানি সরবরাহ করেছে হঠাৎ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশ নিয়ে একটি বার্তা। যেখানে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এখন অরাজকতা চলছে। যে দাবিটি কয়েক মাস করে আসছে আওয়ামী লীগ। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চলছে। যেটি মূলত বাংলাদেশের এ সরকারকে মনেপ্রাণে অপছন্দ করা ভারতের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন মুসলিম ভোট কোন পক্ষে যাবে?
এর আগে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপে মোদি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। মোদি নিজের এক্স বার্তায় সেটি প্রকাশও করেছেন। তবে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইতিবাচক কোনো উত্তর পাননি মোদি সরকার। যা তাঁকে বেশ হতাশ করেছে। কিন্তু সেখানে ট্রাম্প নিজে থেকেই মোদির কথাকে সুদৃঢ় করছেন। এটা বাংলাদেশ ইস্যুতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্কে নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ কি না, সেটা নিয়েও কথা উঠছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এ সরকারের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক নেতাদের সখ্য বহু পুরোনো। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে রয়েছে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর ডেমোক্রেটিক যে তিনজন শীর্ষ নেতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে, তাঁরা হলেন, ক্লিনটন, হিলারি ও বারাক ওবামা। তাই ড. ইউনূস প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে ক্লিনটন ও হিলারি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা যায়, এটাই স্বাভাবিক।
ট্রাম্প তাই নির্বাচনের আগে আগে হিন্দু ভোটারদের কে নিজের দিকে টানতে একটি কূটচাল দিয়েছেন বলা যায়। নির্বাচনের পর তিনি এ অবস্থানে না–ও থাকতে পারেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগটি সরকার পতনের ঠিক পরপর উঠেছিল। এর প্রায় ৩/4 মাস পর ট্রাম্প এ বিষয়ে কথা বলা নিয়ে তাই বেশ রহস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্যটি ইউএসএ হিন্দু ফেডারেশনের খসড়া করা বার্তা। তারাই এ বিষয়ে ট্রাম্পকে দিয়ে বলিয়েছে। আগামী নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।
আরো পড়ুন: গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে
এর আগে ২০১৬ সালে হাওয়াইয়ের এ কংগ্রেসওম্যান হাউস রেজল্যুশন থ্রি নাইনটি সিক্স এবং পরে ২০১৮ সালে ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ জিম ব্যাংকস হাউস রেজল্যুশন ওয়ান সিক্সটি কংগ্রেসে এনেছিলেন। দুটি রেজল্যুশনে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ এনেছিলেন। রেজল্যুশন দুটি এতটাই দুর্বল ছিল যে সেটি কমিটি পর্যায়ে বাতিল হয়ে যায়।
তবে আশঙ্কার কথা, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তুলসি গ্যাবার্ডকে সেক্রেটারি অব স্টেট (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেটি বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রণয়নে বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের মাথাব্যথা নিয়ে যাঁরা উদ্বিগ্ন, অনেকেই মনে করেন সেখানে বড় ভূমিকা রাখে দেশটির অন্যতম মিত্র ভারত। ভারতকে চটিয়ে বাংলাদেশে অনেক কিছু করতে চাইলেও করতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্বস্ত বন্ধু শেখ হাসিনাকে হারিয়ে এবার ভারত বাংলাদেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে চাইলেও সেটা আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের কারণে। সেখানে পরিবর্তন আসতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হয়ে এলে।
এটা কিছুটা বিভক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের। ভোটের হিসাবে বাংলাদেশিরা ডেমোক্র্যাটকে বড় মিত্র ভাবলেও অনেকে হয়তো এবার রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন।
তবে ব্যক্তিগত ভূমিকা যে একেবারে কাজ করে না, তা নয়। সে ক্ষেত্রে আনপ্রেডিক্টেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা হয়তো ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
আপনার মতামত লিখুন :