বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
ফেনীতে বন্যায় ক্ষতি প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা। ভারতীয় উজানের ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর ৬টি উপজেলায় মৎস, প্রাণিসম্পদ, কৃষি, সওজ, এলজিউডি ও দুধ-ডিমের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ফেনী জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ অধিদপ্তরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যায় ৬টি উপজেলার ৬৪ হাজার ১৬১টি গবাদিপশু ও ২৩ লাখ চার হাজার ৪১০টি হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৩৯১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বেড়িবাঁধে আতঙ্ক জলজটে দুর্ভোগ
ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে। যার পরিমান প্রায় ৪৫১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আমনের ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন ধানের আবাদকৃত জমির ২৬ হাজার হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। আউশ আবাদকৃত ১ হাজার ৮৫৪ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। শরৎকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে ৫২৫ হেক্টর, বিভিন্ন ফল বাগানের ক্ষতি হয়েছে ৬৯ হেক্টর, আদার ক্ষতি ৬০ হেক্টর, হলুদ ১৬ হেক্টর ও আখ ১৬ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। ১লাখ ৬৮ হাজার ৫৬০ কৃষক এ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
জেলার এলজিইডি অফিসের তথ্যমতে, ফেনীর ছয়টি উপজেলায় ২ হাজার ৫৮৯ টি সড়কের ২ হাজার ৪৮টি সড়কের প্রায় ৩ হাজার ৩০৫ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক খরচ ৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এদিকে জেলার ছয়টি উপজেলার ১৮ হাজার ৭৬০ টি মৎস্য খামারের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক মুল্য ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা । এছাড়াও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি ২০ লাখ টাকা।
জেলার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্যমতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা।
বন্যাকবলিত এলাকার দুধ ও ডিমের খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার মধ্যে দুগ্ধ খামারে এক কোটি ৬১ লাখ ও ডিমের খামারে ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫টি ইউনিয়নে ৩৮ হাজার ৭৩১টি গরু, ১২৯টি মহিষ, ১৫ হাজার ৬০৪টি ছাগল ও ৩৫৬টি ভেড়া মারা গেছে। এ ছাড়াও ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৮১০টি মুরগি ও এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭২টি হাঁস মারা গেছে। সবমিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৩০২ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৩১৩টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও এক হাজার ৯৯২টি গবাদিপশুর খামারের ১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার এবং এক হাজার ৬২৩টি হাঁস-মুরগির খামারের ১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়াও তিন হাজার ৯৫০ টন পশু-পাখির খাবার বিনষ্ট হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তাছাড়া দুই হাজার ৫৫০ টন খড়, এক লাখ ৮৪ হাজার ২১০ টন ঘাস বিনষ্ট হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ২৮৫ একর চারণভূমি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৯১ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকা।
ফেনী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘ফেনীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রাণিসম্পদ খাতে, যা পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। শুধু মাংস নয়, দুধ, ডিম ইত্যাদি থেকে ফেনীবাসীকে বঞ্চিত হতে হবে।’
আরও পড়ুন : খুবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের দাপুটে কর্মকর্তার নতুন মিশন
ফেনী জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুলতানা নাসরিন কান্তা বন্যার আনুমানিক এ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘এখনো জেলার বিভিন্ন এলাকার বন্যার পানি পুরোপুরি নামে নি। সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেতে আরো কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’
আপনার মতামত লিখুন :