বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ ভূঁইয়ার জন্মদিন উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ
সংসদ নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, এক আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড নয়
দেশ নেত্রী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নভেম্বরে
ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান
অবশেষে লাশ হয়ে ফিরল পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশু মুনতাহা আক্তার। শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পাশের ডোবায় পুঁতে রাখা হয়েছিল। গতকাল রোববার ভোরে মাটিতে পুঁতে ফেলা মরদেহ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলার সময় হাতেনাতে আটক করেন শিশুটির গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম ওরফে মার্জিয়ার মা আলিফজান বেগমকে স্থানীয়রা।
গত ৩ নভেম্বর আপেল খেতে খেতে প্রতিবেশী গৃহশিক্ষিকা মার্জিয়ার ঘরে প্রবেশ করে মুনতাহা। যে ঘরে বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসত মুনতাহা, সেই ঘরেই তাকে গলা চেপে হত্যা করে গৃহশিক্ষিকা মার্জিয়া। পরে শিশুর নিথর দেহ মার্জিয়া ও তার মা মিলে বাড়ির পেছনের ডোবায় পুঁতে রাখে। এ ঘটনায় আটক মার্জিয়া ও আলিফজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, মুনতাহার বাবার সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। তবে কী নিয়ে বিরোধ, তা জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, শিশুটির মরদেহ ডোবায় কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা ছিল। মার্জিয়া আটক হওয়ার পর তার মা আলিফজান লাশটি ডোবা থেকে তুলে গতকাল ভোরে শিশুটির চাচার বাড়ির পাশে একটি পুকুরে ফেলে আসতে যায়। পথে স্থানীয়রা হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলেন। পুলিশ আরও জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ মরদেহ কাদামাটিতে চাপা থাকায় পচে মাথার খুলি বেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মার্জিয়া ও তার মা আলিফজান ছাড়াও মার্জিয়ার নানি কুতুবজান, প্রতিবেশী নিজাম উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তিনি বলেন, পুলিশের তথ্যমতে মুনতাহার স্বজনসহ স্থানীয়রা আজ (রোববার) রাতভর মাটি খোঁড়া কোনো জায়গা আছে কি না, খুঁজতে থাকেন। ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবিকে হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে রাস্তা পার হতে দেখে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে কাদামাটি মাখা মুনতাহার মরদেহ দেখতে পান। আটকের পর তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ প্রথমে মাটিতে পুঁতে ফেলেছিল। রাতে সেখান থেকে মরদেহ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলতে চেয়েছিল।
মুনতাহার বাবা শামীম আহমদ কালবেলাকে বলেন, ‘আমি এতদিন যাদের খুব অসহায় ভেবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি, তারাই আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখল। আমি ভাবতেই পারিনি তারা এমন কাজ করতে পারে। আমি সারা দেশে মেয়েকে খুঁজতেছি, কিন্তু আমার বাড়ির পাশেই পেছন গেট থেকে মেয়েটিকে নিয়ে মেরে ফেলে রেখেছে ওরা। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মার্জিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বর রাতেই মুনতাহাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডোবায় ফেলে রাখা হয়। তাকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টি.এইচ ডাঃ আব্দুস সামাদ এর দুর্নীতি
শিশু মুনতাহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মার্জিয়ার বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল বিকেলে কানাইঘাটের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামে শিশু মুনতাহা হত্যাকারীদের বাড়িতে জড়ো হন এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আপনার মতামত লিখুন :