ঢাকাস্থ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ঐক্য ফোরামের আত্মপ্রকাশ
ইসরায়েলি সেনাদের ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ
ইরানের সামরিক অভিযান ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই’ সম্পন্ন হয়েছে : ট্রাম্প
দেশনেত্রী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহবায়ক শ্রেষ্ঠ, সদস্য সচিব আলী
যশোরে হঠাৎ বেড়ে গেছে খুন। গড়ে তিনদিনে একজন করে শিকার হয়েছেন খুনের। চলতি বছরের ৩০ দিনে খুন হয়েছেন ১2 জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই নৃশংসভাবে খুন হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সফল হতে পারছে না।
তবে দেরিতে হলেও পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এরপর থেকে অপরাধীরা এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে। পুলিশের তথ্য মতে ১০৮ মামলায় দই শতাধিক আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষ অভিযানের মধ্যেই সর্বশেষ সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠীর স্কুল শিক্ষার্থী চয়ন দাস খুন হয়েছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে যশোর অভয়নগর উপজেলার শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় মুরাদ হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই দিন দিবাগত রাত থেকে পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের তোলা গোলদার পাড়ায় ফয়জুল ইসলাম নামে এক যুবককে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। চুরির অভিযোগে একই এলাকার প্রভাবশালী আব্দুল্লাহ ও তার লোকজন তাকে হত্যা করেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নুরপুর মধ্যপাড়ায় মহাসিন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। সুদের পাওনা ৯ লাখ টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করেন একই এলাকার মেহেদী হাসান লিখন নামে এক ব্যক্তি। হত্যার পর ফতেপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা থেকে নিহত মহাসিন মণ্ডলের লাশ ফেলে রেখে দেয়া হয়েছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশনে খুনসহ ১৫ মামলার আসামি জুম্মানকে ছুরিকাঘাতে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করেন বন্ধুরা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে যশোর উপশহর ডি ব্লকের ভাড়া বাসায় স্ত্রী মায়ারানী মন্ডলকে হত্যা করেন এনজিও কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার সানা। পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করা হয়।
গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা সোলায়মান হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এলাকার নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি শহরের খড়কি এলাকায় বাক প্রতিবন্ধী শিশু আয়েশাকে পিটিয়ে হত্যা করেন তার সৎ মা পারভীন খাতুন। অবশ্য পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে আটক করতে পেরেছে।
২০ জানুয়ারি ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে খুন হন তৌফিক হোসেন নামে এক যুবক। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করা হয়। স্ত্রীর প্রেমিক ক্যাসেট বাবু তাকে হত্যা করেন।
১৯ জানুয়ারি রাতে যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে রিপন হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মাংস কাটার পারিশ্রমিক টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করে একই এলাকার কয়েকজন দুর্বৃত্ত।
আরও পড়ুনঃ যশোর মেডিকেলের ৩৫ কর্মচারীর নিয়োগ জটিলতায় বেতন বন্ধ
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ছুরিকাহত রিকশাচালক টগর গত শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি একই এলাকার খন্দকার আবু তাহের মনির ছেলে।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে জনমনে বিরাজ করছে চরম আতংক। পুলিশ ইতিমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেহজনক কিশোর-যুবকদের তল্লাশি করা হচ্ছে। এ সময় বার্মিজ চাকুসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
গত রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, কোন জনপ্রতিনিধি কিংবা কোন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি জানান, সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত: ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
আপনার মতামত লিখুন :