অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশের সময় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কঠোর বাধার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই জন সংসদ সদস্য। জর্ডান সীমান্ত হয়ে ফিলিস্তিনি অঞ্চলে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে ক্লাইভ লুইস ও লারা বার্ড নামের ওই দুই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাকে আটকানো হয়। এ সময় শুধু তাদের আটকে রাখাই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি নীতির সমালোচনা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার উদ্দেশ্যে ওই প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন দুই ব্রিটিশ এমপি। তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের রামাল্লায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি, জলপাই সংগ্রহের বর্তমান মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর কর্মসূচিও ছিল তাদের।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস জানান যে, কোনো ধরনের অন্যায় বা আইন লঙ্ঘন না করা সত্ত্বেও তাদের প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে এবং তাদের ওপর চলা অবিচার ও সহিংসতার চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে তারা এই সফরে অংশ নিয়েছিলেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে তারা পিছপা হবেন না বলে সংকল্প ব্যক্ত করেন।
আরেক আইনপ্রণেতা লারা বার্ড তার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলা নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি জানান, ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে তিনি তার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। পশ্চিম তীরে বিদেশি রাজনীতিবিদদের প্রবেশে এমন বাধা প্রদান এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :