ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সোহাগ ভূঁইয়া
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে চিকিৎসকের ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
৭,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন সি১০০আই আনল রিয়েলমি, এক চার্জে চলবে তিনদিন
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার আসামি সাইফুল গ্রেফতার
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হারলো রংপুর রাইডার্স। কাকতালীয়ভাবে দুই ম্যাচেরই ফল কুমিল্লার ৬ উইকেটে জয়।তবে আগের ম্যাচটি গ্রুপপর্বের গুরুত্বহীন হলেও এবারের হারটি রংপুর রাইডার্সের জন্য বড় ধাক্কা। কেননা গ্রুপপর্বে শীর্ষে থাকা দলটির জন্য এটি ছিল কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। এই ম্যাচে তাদের হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে কুমিল্লা।
১ম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নাম লিখিয়েছে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। বুধবার ফাইনালে ওঠার শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বরিশাল-রংপুর।ফলে এবারের বিপিএলে আরও একবার এবং আসরে শেষবারের মতো সাকিব-তামিমের দ্বৈরথ দেখতে পারবেন সমর্থকরা এবং যে কোনো একজনের ফাইনালের আগে বিদায়ও নিশ্চিত।
রংপুর-বরিশাল ছাপিয়ে সাকিব-তামিম লড়াই যে ম্যাচে বড়!নামকরণ করা আছে, ‘কোয়ালিফায়ার-২’। তবে আসলে রংপর রাইডার্স এবং ফরচুন বরিশালের বুধবারের ম্যাচটি মূলত সেমিফাইনালই। যে জিতবে সেই দল ফাইনাল খেলবে। আর পরাজিত দল বিদায় নেবে। অর্থ্যাৎ, দু’দলের জন্যই বাঁচা মরার লড়াই।
কিন্তু একটি বিশেষ কারণে বুধবারের ম্যাচটি পেয়েছে অন্যমাত্রা। এদিন বিপিএলের কোয়ালিফায়ার-২‘র ম্যাচটি পরিণত হয়েছে সাকিব ও তামিম লড়াইয়ে।
এক সময়ের খুব ভাল বন্ধু এখন মাঠের বাইরে রীতিমত ‘শত্রু।’
মাঠে খেলা শেষে রীতি মেনে হাত মেলালোও কথা বলেন না, মনের দিক থেকে অনেক দুরে সাকিব ও তামিম। একজন আরেকজনকে আউট করে এমন প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছেন, যা চোখে লেগেছে। বোঝাই যায়, শুধু প্রতিপক্ষ হিসেবেই নয়, একজন আরেকজনের কাছে রীতিমত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীও বনে গেছেন। মাঠে তামিম ও সাকিবের শরীরি অভিব্যক্তি বলে দেয়, কেউ হারতে চান না।
তামিম ও সাকিবের এই যুদ্ধংদেহী মানসিকতাটা দর্শক ও ভক্তদেরও নজর কেড়েছে। তাই বুধবার রংপুর ও বরিশালের ম্যাচ পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।তামিম বরিশালের অধিনায়ক হলেও সাকিব তার দল রংপুরের অধিনায়ক নন; কিন্তু মাঠে দুজনার দিকেই তাকিয়ে থাকে তাদের দল। এবারের বিপিএলে দু’জনই নিজ নিজ দলকে প্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তামিম এখন পর্যন্ত ৪৪৩ রান করে তৌহিদ হৃদয়ের (৩৪৭) পর দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। আর সাকিব উইকেট শিকারে দুই নম্বর (১৭ উইকেট); শরিফুলের (২২) পিছনে। ব্যাট হাতে শুরুতে একদম নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও পরে চোখের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাট হাতেও জ্বলে ওঠা চ্যাম্পিয়ন অলরাউন্ডার সাকিব ২৫৪ রান করে এখন রান তোলায় ১২ নম্বরে অবস্থান করছেন।এখন দেখার বিষয় দু’পক্ষের সাফল্যে কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন। শেষ মোকাবিলায় তামিমকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব। দেখা যাক বুধবার কি হয়? বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত সাকিব ও তামিমের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন?যেই হাসুন, একটি সত্য কিন্তু নিশ্চিত; তাহলো এক সময়ের দুই খুব কাছের বন্ধুর কিন্তু এবারের বিপিএল ফাইনালে আর দেখ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একজনের বিপিএল যে কালই শেষ হয়ে যাবে!
সাকিব-তামিম ‘দ্বৈরথ’ নিয়ে মাথাব্যথা নেই দুই কোচের
সাকিব অধিনায়ক নন। রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তারপরও ভক্ত-সমর্থকদের কাছে রংপুর রাইডার্স মানেই সাকিবের দল। সে কারণেই বলা হচ্ছে কে জিতবে সাকিবের রংপুর? নাকি তামিমের বরিশাল? বুধবার রাতে মিলবে এ প্রশ্নের উত্তর।
সাকিব-তামিম লড়াইটি এখন সব কিছু ছাপিয়ে টক অব দ্য বিপিএল হয়ে গেছে। তবে শুনে অবাক হবেন যে, দুই দলের কোচদের কাছে সাকিব-তামিম দ্বৈরথ নিয়ে কোনোই মাথাব্যথা নেই। তারা এটাকে সেভাবে দেখতেও চান না।
আজ মঙ্গলবার সাকিব আর তামিম লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বরিশাল কোচ মিজানুর রহমান বাবুল এবং রংপুর কোচ সোহেল ইসলাম প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন।
বাবুলের কথা, ‘আমরা আমাদের নিজেদের খেলাটাই উপভোগ করার চেষ্টা করি। তখন আমরা সাকিব বা তামিমের জিনিসটা মাথায় আনি না। যে দলে কাজ করি, সেই দলের কথাই ভাবি। আমি চাই তামিম সেরা ক্রিকেট খেলুক, আমার দল জিতুক। তখন এটাই উপভোগ করি। মাঠের পারফরম্যান্স উপভোগ করি। ’
আরও পড়ুনঃ বিপিএলে ফাইনালের আগেই আজ মহা ফাইনাল
বরিশাল কোচ বাবুল যোগ করেন, ‘ভাই বল টু বল খেলা হয়। তামিম যখন ব্যাট করে, তখন দেখে না কে বল করছে। বল দেখে খেলে। ক্রিকেট খেলা চেহারা দেখে হয় না। ’
তবে মাঠের খেলায় দু’জনের দ্বৈরথ নিয়ে না ভাবলেও বাবুল চান তামিম ও সাকিব ইস্যুতে একটা স্থিতি আসুক। তাই মুখে এমন কথা, ‘ইদানীং খুবই দেখছি সাকিব-তামিম নিয়ে কথা-বার্তা চলছে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক জায়গায় আসলে মনে হয় ভালো হয়। দুজন বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়। দুইজন দুই দলে, দুজনই চাইবে যার যার দলকে জেতাতে। ’
অন্যদিকে রংপুরের কোচ সোহেল ইসলাম সরাসরি বলে দেন, সাকিব ও তামিমের ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। তার কাছে এটা তেমন কোন ইস্যুই না। তিনিও প্রতিপক্ষ বরিশাল কোচের ভাষায় বলেন, ‘ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে আমার আসলে বলার কিছু নেই। আমি আমার দল নিয়ে চিন্তা করি। প্রতিপক্ষ দলে যারা আছে তারাও দলের অংশ। তাদের নিয়েও ভাবতে হয়। ভাবছি। আমি আসলে নিজ দলের পারফরম্যান্স, দলের প্লেয়ার, এগুলো নিয়েই চিন্তা করি। ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে চিন্তার কোনো অপশন নাই।’
আপনার মতামত লিখুন :